https://www.jac-recruitment.sg/?source=google.com
শিরোনাম
আড়াই বছর ধরে শিক্ষকের স্বামীর ‘নগদে’ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা! নিশাত হত্যা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি প্রকাশ ইরানে তীব্র মার্কিন হামলা, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কসবায় ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন নিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলোতে সরকারি বিজ্ঞাপন চালুর দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাছের ড্রামে করে পাচার হচ্ছিল অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ: ডোনাল্ড ট্রাম্প আখাউড়া স্থলবন্দরে আশানুরূপ বাড়েনি রপ্তানি আয়, কমেছে রাজস্বও

আড়াই বছর ধরে শিক্ষকের স্বামীর ‘নগদে’ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা!

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 10:50 am

আড়াই বছর ধরে শিক্ষকের স্বামীর ‘নগদে’ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আড়াই বছর ধরে শ্রেণি শিক্ষকের স্বামীর মোবাইল ফোন নম্বরে ‘নগদ’ এর মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন বিষয়টি জানাজানির পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীর বাবা ভ্যানচালক।
পরে গতকাল সন্ধ্যায় ‘আত্মসাৎ’ করা কিছু টাকা শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল ফোনে নগদের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টদেরকে অবগত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে উপবৃত্তির জন্য মনোনীত হয় রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সময়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ মিয়া। তবে উপবৃত্তির জন্য পরশের কারো মোবাইল ফোন নম্বর না দিয়ে ওই সময়ের শ্রেণি শিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের নম্বে দিয়ে দেন। এরপর থেকে ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির টাকা জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে ইব্রাহিম খলিলের ফোন নম্বরে ৪৫০০ টাকা জমা হয়।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ অনিয়মিত আসার বিষয়ে কথা বলতে ক্লাশ চলাকালীন পরশের মাকে ডেকে আনেন শ্রেণি শিক্ষক স্বীকৃতি রায়। এ সময় পরশের মা খুকি বেগমকে বলা হয় নিয়মিত না এলে উপবৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ কথা শুনে খুকি বেগম জানান, তার ছেলে এখনো উপবৃত্তি পান না। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তিনি নামের পাশে থাকা ফোন নম্বরে কথা বলার পরামর্শ দেন। কাগজে থাকা নম্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পরশের কোনো স্বজনের নম্বরে টাকা যাচ্ছে না। যে নম্বরটিতে যাচ্ছে সেটি বর্তমানে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে থাকা আয়েশা আক্তারের স্বামী চট্টগ্রামে কর্মরত ইব্রাহিম খলিলের নম্বরে। প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক ওই নম্বরে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষক ওই মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ইব্রাহিম খলিল ফোন ধরেননি। পরে অন্য এক শিক্ষক ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন ও নিজের নামের সত্যতা স্বীকার করেন। পরশের মাও ওই ফোন নম্বরে কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে বিকেলের দিকে ২৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং জানানো হয় আড়াই বছরে ওই টাকাই পাওয়া গেছে।
শিক্ষক স্বীকৃতি রায় জানান, পরশ উপবৃত্তি টাকা পাচ্ছে না শুনে অবাক হই। পরে দেখি অন্য একজনের ফোন নম্বর দেওয়া হয়। যোগাযোগ করে জানা যায় ইব্রাহিম খলিল নামে একজনের ফোন নম্বর এটি। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়।
পরশের মা খুকি বেগম বলেন, ‘আমি শ্রেণি শিক্ষককে জানাই যে আমার ছেলে উপবৃত্তি পায় না। তখন জানানো হয় অন্য একজনের ফোন নম্বরে টাকা যাচ্ছে। আমি ওই নম্বরে যোগাযোগ করার পর প্রথমে অস্বীকার করা হয়। রাগ দেখানো হয়। পরে ২৭০০ টাকা পাঠিয়ে আমাকে জানানো হয়। আমি বলেছি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে।’
প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘এক সময়ে যে কারো মোবাইল ফোন নম্বর দিলেই সেটাতে টাকা পাঠানো যেতো। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্য নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়। ফোন নম্বরটি আমাদের সাবেক এক সহকর্মীর স্বামীর বলে অনেকে বলতেছেন। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্য জনতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি জানার পর থেকে ইব্রাহিম খলিল ফোন রিসিভ করা এড়িয়ে চলছেন বলে জানা গেছে।
Facebook Comments Box

Posted ১০:৫০ এএম | শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

dainiksarod |